Islamic Q & A

প্রশ্নঃ আমার, আপনার এবং পৃথিবীর সব কিছুর স্রষ্টা ও পালনকর্তা কে?
উত্তরঃ আমার, আপনার এবং সারা জাহানের একমাত্র স্রষ্টা ও পালনকর্তা হলেন মহান আল্লাহ। তিনি দয়া করে আমাকে সহ পৃথিবীর প্রতিটি বস’ সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু লালন-পালন করছেন।

প্রশ্নঃ আমাদের দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম কী?

উত্তরঃ আমাদের দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম হল ইসলাম। ইসলাম মানে হল, আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর প্রতি ভালবাসা রেখে এবং তাঁর কাছেই আশা ও আকাংখা নিয়ে পরিপূর্ণভাবে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।

প্রশ্নঃ আমরা কিভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারি?

উত্তরঃ আমরা এ বিশাল সৃষ্টিজগতের দিকে তাকালে আল্লাহর পরিচয় পাই। ঐ সুবিশাল আকাশ, এই বিস্তীর্ণ পৃথিবী, চাঁদ, সুরুজ, দিন ও রাতের আবর্তন ইত্যাদির দিকে গভীরভাবে তাকালে বুঝতে পারি এ বিশ্বচরাচর একাকি সৃষ্টি হয়ে যায়নি। বরং এসবের পেছনে রয়েছে একজন সুনিপুন স্রষ্টার হাত। আর তিনি হলেন, মহান আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্নঃ আল্লাহ কোথায় আছেন?

উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলা সাত আসমানের উপর আরশে আযীমে অবস্থান করেন। তিনি তাঁর সব সৃষ্টি থেকে আলাদা।

প্রশ্নঃ আল্লাহ কি সত্বাগতভাবে আমাদের সাথে থাকেন?

উত্তরঃ আল্লাহ স্বীয় সত্বায় আরশে আযীমের উপর অবস্থান করেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞান আমাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি সব কিছু দেখছেন। সব কিছু শুনছেন। তার শক্তি এবং ক্ষমতা সব জায়গায় বিরজমান। আল্লাহ তা’আলা মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম) কে লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা ভয় পেওনা। আমি তোমদের সাথে আছি। সব কিছু দেখছি এবং শুনছি।” (সূরা ত্বাহাঃ ৪৬)


প্রশ্নঃ আল্লাহর ওলী কারা?

উত্তরঃ ওলী শব্দের অর্থ, আল্লাহর প্রিয়পাত্র বা বন্ধু। তারাই আল্লাহর প্রিয়পাত্র হন যারা সত্যিকার ভাবে আল্লাহকে ভয় করে জীবন পরিচালনা করেন, সৎ আমল করেন, তাঁর আদেশগুলো বাস-বায়ন করেন এবং নিষেধকৃত বিষয়গুলো থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখেন এবং কুরআন ও হাদীসকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন।

প্রশ্নঃ কী পদ্ধতিতে আমাদের আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগী করা উচিৎ?

উত্তরঃ আমাদের কর্তব্য হল, এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগী করব যাতে সবটুকু ইবাদত শুধু তাঁর জন্যই নিবেদিত হয়। অন্য কোন সৃষ্টিকে তাঁর সাথে শরীক বা অংশিদার করা না হয়।

প্রশ্নঃ কী দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে নবীদেরকে প্রেরণ করেছিলেন?

উত্তরঃ যুগে যুগে সকল নবী ও রাসূলগণকে প্রেরণের উদ্দেশ্য হল, তারা মানুষকে এ আহবান করবেন যে, মানুষ যেন কেবল আল্লাহর ইবাদাত করে এবং তার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করে।
আরো উদ্দেশ্য হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট অজ্ঞতার অযুহাত পেশ করতে না পারে।

প্রশ্নঃ ইসলাম কাকে বলে?

উত্তরঃ আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নিয়ে পরিপূর্ণভাবে তার আনুগত্য করা এবং শির্‌ক ও শিরকপন্থীদের থেকে সর্ম্পক ছিন্ন করাকেই ইসলাম বলে।

প্রশ্নঃ ইসলামের মূল স্তম্ভ কয়টি ও কী কী?

উত্তরঃ ইসলামের মূল স্তম্ভ ৫টি। সেগুলো হলঃ
১) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল- এ কথার স্বীকৃতি প্রদান করা।
২) নামায প্রতিষ্ঠা করা।
৩) যাকাত আদায় করা।
৪) রামাযান মাসে রোযা পালন করা।
৫) যে ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম তার জন্য হজ্জ সম্পাদন করা।

প্রশ্নঃ ঈমান কাকে বলে?

উত্তরঃ অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং কাজে বাস্তবায়নকে ঈমান  বলে।

প্রশ্নঃ ঈমান কি বাড়ে ও কমে?

উত্তরঃ হাঁ। কথা ও কাজ অনুযায়ী ঈমান বাড়ে ও কমে।

প্রশ্নঃ ঈমান বাড়ে ও কমে এ কথার অর্থ কী?

উত্তরঃ একথার অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি যত বেশী আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং ভাল কাজ করবে তার ঈমান তত বৃদ্ধি পাবে। আর যে যত পাপ ও অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়বে তার ঈমান তত কমবে।

প্রশ্নঃ ঈমানের মূল স্তম্ভ কয়টি ও কী কী?

উত্তরঃ ঈমানের মূল স্তম্ভ ৬টি। সেগুলো হলঃ
১) আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ২) ফেরেশ্‌তাগণের প্রতি বিশ্বাস ৩) আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি বিশ্বাস ৪) নবী ও রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস ৫) পরকালের প্রতি বিশ্বাস ৬) ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি বিশ্বাস।

প্রশ্নঃ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অর্থ কী?

উত্তরঃ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অর্থ হচ্ছে, এ বিশ্বাস করা যে  আল্লাহ তা’আলা রিযিক দাতা, সৃষ্টিকর্তা, সব কিছুর পরিচালক, আসমান ও যমিনের সমস্ত রাজত্ব এবং কর্তৃত্ব তাঁর হাতে। সমস্ত সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি যাবতীয় ইবাদত পাওয়ার একমাত্র অধিকারী; অন্য কেউ নয়। তাঁর রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর নাম এবং তিনি অসংখ্য পরিপূর্ণগুণের অধিকারী।

প্রশ্নঃ ফেরেশ্‌তা কারা?

উত্তরঃ তারাঁ আল্লাহর এমন এক সৃষ্টি যাদেরকে তিনি নূর (আলো) দ্বারা সৃষ্টি করেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন বা যে সব কাজ করতে আদেশ করেছেন তা পরিপূর্ণভাবে পালন করেন। তাতে বিন্দুমাত্র অবাধ্যতা করেন না।
প্রশ্নঃ আসমানী গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং নবী-রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের অর্থ কী?
উত্তরঃ নবী রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের অর্থ হল, আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে অনেক নবী প্রেরণ করেছেন যেমন, নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা, (আলাইহিমুস সালাম) প্রমূখ । তাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলা মানবজাতির দিকনির্দেশনার জন্য আসমানী গ্রন্থ নাজিল করেছেন। যেমন, তাওরাত, ইন্‌জিল, যাবূর,ইত্যাদি। নবীগণ তাদের সমসাময়িক মানবগোষ্ঠিকে এক আল্লাহর দাসত্ব করার জন্য আহবান করেছেন এবং শিরক করা থেকে নিষেধ করেছেন।
নবী-রাসূলদের ধারাবাহিকতার সব শেষে আগমন করেছেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তাঁর প্রতি আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেছেন আল কুরআন। এ কুরআনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল আসমানী গ্রন্থকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তিনি এ কুরআনকে পরিপূর্ণভাবে বাস্ববায়ন করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাঁর দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুওয়তী যিন্দেগীতে। তাই যে কোন ইবাদত অবশ্যই হতে হবে কুরআনের শিক্ষা এবং নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ তথা তাঁর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসারে।

প্রশ্নঃ পরকালে বিশ্বাসের অর্থ ?
উত্তরঃ পরকালে বিশ্বাসের অর্থ হল, একথা বিশ্বাস করা যে, মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি জিনিসের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ দিয়েছেন। সে মেয়াদ শেষ হলে সবাইকে অবশ্যই মৃত্যু বরণ করতে হবে। এরপর আল্লাহ সকলকে কবর থেকে পূণরুত্থিত করবেন এবং কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ নেয়ার পর প্রত্যেককে তাদের কাজের যথোপযুক্ত প্রতিদান দিবেন। ভাল কাজের বিনিময়ে তাদেরকে দেয়া হবে ভাল প্রতিদান। আর পাপ ও অন্যায়ের বিনিময়ে প্রদান করবেন কঠিন শাস্তি।
আমাদেরকে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, যে মহান স্রষ্টা এ সুন্দর দেহাবয়বকে যেমনিভাবে প্রথমবার সৃজন করেছেন তিনি পূণরায় তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

প্রশ্নঃ ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রাত বিশ্বাসের অর্থ কী?
উত্তরঃ এর অর্থ হল, এ জীবনে ভাল-মন্দ যাই ঘটুক না কেন এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, তা অবশ্যই আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা ও পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। কারণ, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত শুক্ষভাবে অনেক পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন।

প্রশ্নঃ “লা-ইলাহা ইল্লালাহ” এর ব্যাখ্যা কী?
উত্তরঃ ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ অর্থ হল, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। বরং যাবতীয় ইবাদাত ও উপাসনা পাওয়ার একমাত্র হকদার তিনি। তিনি ব্যতিরেকে যত কিছুর ইবাদত করা হচ্ছে সবই মিথ্যা এবং ভ্রান্ত।

প্রশ্নঃ ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর ব্যাখ্যা কী?
উত্তরঃ ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর ব্যাখ্যা হল, নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন করা। তিনি যে সকল সংবাদ ও তথ্য দান করেছেন সেগুলোকে নির্ভূল ও সত্য বলে মেনে নেয়া। তিনি যেসকল বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন বা সতর্ক করেছেন সেগুলো থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর দেখানো পদ্ধতি ব্যতিরেকে ইবাদত না করা।

প্রশ্নঃ ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ এর কোন শর্ত আছে কী?
উত্তরঃ তাওহীদের স্বীকৃতি জ্ঞাপক এই মহান বাণীটির জন্য ৮টি শর্ত রয়েছে। সে শর্তগুলো হলঃ
১) ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ এর অর্থ জেনে-বুঝে  স্বীকৃতি দেয়া। এর অর্থ বা তাৎপর্য না বুঝে পাঠ করলে কোন লাভ হবে না।
২) দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে স্বীকৃতি দেয়া। এতে কোন সন্দেহ ও অস্পষ্টতা রাখা যাবে না।
৩) নির্ভেজাল মনে স্বীকৃতি দেয়া। কোন শিরকী ধ্যান-ধারণা নিয়ে পাঠ করলে কোন লাভ নেই।
৪) সত্য মনে করে স্বীকৃতি দেয়া। কপটতা থেকে মুক্ত থাকা অপরিহার্য।
৫) ভালবাসা সহকারে স্বীকৃতি দেয়া। মনের মধ্যে ঘৃণা বা ক্রোধ জমা রেখে স্বীকৃতি দিলে কোন উপকার হবে না।
৬) পূর্ণ আনুগত্যের মন-মানষিকতা নিয়ে স্বীকৃতি দেয়া। পরিত্যাগ করার বা অমান্য করার মানষিকতা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
৭) মনেপ্রাণে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা। এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করা বা প্রশ্নতোলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
৮) আল্লাহ ছাড়া অন্য যত কিছুর ইবাদাত করা হচ্ছে সব অস্বীকার করা।

প্রশ্নঃ আল্লাহা তা’আলা আমাদেরকে যে সব বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলোর মধ্যে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বড়?
উত্তরঃ সে বিষয়টি হল তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ।

প্রশ্নঃ তাওহীদ কী?
উত্তরঃ তাওহীদ হল, একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা এবং আল্লাহ তা’আলা নিজে কুরআনে বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীসে তার যে সকল নাম ও গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোকে কোনরূপ ব্যাখ্যার আশ্রয় না নিয়ে সহজভাবে মেনে নেয়া।

প্রশ্নঃ তাওহীদ কত প্রকার?
উত্তরঃ তাওহীদ তিন প্রকারঃ ১) তাওহীদুর রুবূবিয়া ২) তাওহীদুল উলূহিয়া ৩) তাওহীদুল আসমা ওয়াস্‌ সিফাত।

প্রশ্নঃ ‘তাওহীদুর রুবূবিয়া’ কাকে বলে?
উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক দান করা, বৃষ্টি বর্ষণ, জীবন দান, মৃত্যু দান ইত্যাদি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আল্লাহকে এক মনে করাকে তাওহীদে রুবূবিয়া বলা হয়।

প্রশ্নঃ ‘তাওহীদুল উলূহিয়া’ কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ, দু’আ, মানত ইত্যাদি বান্দার যত প্রকার ইবাদত-বন্দেগী হতে পারে সবকিছুর একমাত্র অধিকারী আল্লাহকে মনে করাকে তাওহীদে উলূহিয়া বলা হয়।


প্রশ্নঃ ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত’ কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলা নিজে কুরআনে অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীসে আল্লাহর পরিচয় সর্ম্পকে যে সব কথা বলেছেন সেগুলো মনে প্রাণে মেনে নেয়া। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর কোন গুণকে অস্বীকার করা যাবে না বা  তাতে কোন শব্দগত বা অর্থগত বিকৃতী সাধন করা যাবে না। কিংবা সেগুলোর কোন ধরণ বা আকৃতি কল্পনা করা যাবেনা। বরং এ বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, এ সমস্ত গুণাবলী অবশ্যই সত্য কিন্তু তা মহান আল্লাহর জন্য যেমন হওয়া উচিৎ তেমনই।

প্রশ্নঃ ইবাদাত বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলা যে সমস্ত কথা বা কাজে খুশী হন চাই তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য হোক তাকে ইবাদাত বলে।

প্রশ্নঃ ইবাদতের কোন শর্ত আছে কি?
উত্তরঃ ইবাদতের কয়েকটি শর্ত রয়েছে। সেগুলো হলঃ
১) ইখলাস থাকা অর্থাৎ যে কোন কাজ নির্ভেজাল চিত্তে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কাজ করা।
২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দেখানো পদ্ধতি অনুসারে সে কাজটি করা।
প্রশ্নঃ ইবাদাতের কতিপয় উদাহরণ দিন।


উত্তরঃ নামায রোযা, হজ্জ, যাকাত, ভয়, আশা, সাহায্য চাওয়া, বিপদ থেকে উদ্ধার কামনা ইত্যাদি যে সব কাজ আল্লাহ তা’আলা আমদেরকে করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন সবই আল্লাহর ইবাদাত।

প্রশ্নঃ আল্লাহ তা’আলা আমদেরকে যে সব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কোনটি?

উত্তরঃ সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং মারাত্মক হচ্ছে আল্লাহর সাথে শির্‌ক করা।

প্রশ্নঃ শির্‌ক কী?

উত্তরঃ কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা শির্‌ক। যেহেতু মহান আল্লাহ তো আমাকে, আপনাকে তথা সমগ্র বিশ্বকে একাই সৃষ্টি করেছেন।

প্রশ্নঃ শির্‌ক কত প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ শির্‌ক তিন প্রকারঃ ১) বড় শির্‌ক ২) ছোট শির্‌ক ৩) গোপন শির্‌ক।

প্রশ্নঃ বড় শির্‌ক বলতে কী বুঝায়?

উত্তরঃ কোন ইবাদাত যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর নামে করা হয় তবে সেটা হল বড় শির্‌ক। কোন মুসলমান এ শির্‌ক করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং তার পূর্বের সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। এমনকি তাওবা না করে এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রশ্নঃ বড় শির্‌ক কত প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ বড় শির্‌ক চার প্রকার। তা হলঃ
১) দু’আর ক্ষেত্রে শির্‌ক করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট কিছু চাওয়া বা  বিপদাপদ থেকে রক্ষা পওয়ার জন্য দুআ করা বড় শিরক।
২) নিয়তের ক্ষেত্রে শির্‌ক করা। ইবাদাত করতে গিয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা।
৩) ইবাদাতের ক্ষেত্রে শির্‌ক। আল্লাহর আদেশ বাস্ববায়ন করার পরিবর্তে কোন পীর, ওলী-আওলিয়া বা অন্য কোন সৃষ্টির উপাসনা করা।
৪) ভালোবাসার ক্ষেত্রে শির্‌ক। যে ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহ তা’আলা ভালবাসা পাওয়ার  উপযুক্ত সে ক্ষেত্রে তাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা।

প্রশ্নঃ ছোট শির্‌ক কী?

উত্তরঃ যে কাজ করলে বড় শিরকে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেটাই ছোট শির্‌ক। যেমন, লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্যে কিংবা দুনিয়াবী কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোন নেক কাজ করা হলে তা ছোট শিরকে রূপান্তুরিত হয়।
এ জাতীয় কাজ করলে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হবে না বটে কিন্তু সে অবশ্যই একটি বড় ধরণের পাপ সম্পাদন করল। এ জন্য যে কোন ভাল কাজ করার আগে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করার ব্যাপারে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে।

প্রশ্নঃ গোপন শির্‌ক কী?

উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নির্ধারিত তাকদীরের ব্যপারে অসন্তোষ প্রকাশ করাই হল গোপন শির্‌ক।

প্রশ্নঃ গোপন শির্‌কের প্রমাণ কী?

উত্তরঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “গভীর রাতে একখণ্ড কালো পাথরের উপর দিয়ে একটি কালো পিঁপড়া হেঁটে গেলে তার পায়ের যে আওয়াজ হয় তার চেয়ে আরো বেশী নীরবে আমার উম্মতের মধ্যে গোপন শির্‌ক প্রবেশ করবে।”

প্রশ্নঃ কুফুরী কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ কুফরী দুপ্রকারঃ
১) বড় কুফরী। যেমন, কেউ আল্লাহ অসি-ত্বকে অস্বীকার করলে বা ইসলামী আদর্শকে ঘৃণা করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এ জতীয় কুফুরী করার কারণে মানুষ ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যায়।
২) ছোট কুফরী। যেমন, কেউ আল্লাহকে অস্বীকার করল না কিন’ সে আল্লাহর কোন অবদানকে অস্বীকার করল। এ ক্ষেত্রে সে ইসলাম থেকে বের হবে না কিন’ তা অবশ্যই বিরাট গুনাহের কাজ করল।

প্রশ্নঃ বড় কুফরী কয় প্রকার?

উত্তরঃ বড় কুফরী পাঁচ প্রকারঃ
১) অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফুরী করা। আল্লাহ, রাসূল, ফেরেশ্‌তা, ইসলামী কোন বিধান যেমন, নামায, পর্দা ইত্যাদি বিষয়কে সরাসরি অস্বীকার করা বড় কুফুরী। যার কারণে একজন মানুষ নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
২) অহংকারের মাধ্যমে কুফুরী করা। যেমন, ইসলাম একটি ‘চিরন্তন সত্য জীবন ব্যবস্থা’ এ কথা জানার পরও অহংকার বশতঃ ইসলাম বা ইসলামের রীতি-নীতিকে এড়িয়ে চলা।
৩) সন্দেহ পোষণ করা।
৪) অবাধ্যতা করার মাধ্যমে কুফুরী করা।
৪) মুনাফেকী করা তথা মনের মধ্যে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ লুকিয়ে রেখে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করা। এটা জঘণ্যতম কফুরী।

প্রশ্নঃ মুনাফেকী কয় প্রকার?

উত্তরঃ ১) বিশ্বাসগত ২) কর্মগত।

প্রশ্নঃ বিশ্বাসগত মুনাফেকীর অর্থ কী? তা কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ বিশ্বাসগত মুনাফেকীর অর্থ হল, মূলত সে ইসলামকে বিশ্বাসই করেনা। বরং বাহ্যিকভাবে ইসলামকে মেনে চলে মনে হলেও বিশ্বাসগতভাবে সে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী। ইসলামের ক্ষতি করার জন্য সে এ বেশ ধারণ করেছে।
মুনাফেকী ছয় প্রকার। যেমনঃ
১) আল্লাহ ও রাসূলকে অস্বীকার করা।
২) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনীত জীবনাদর্শ ইসলাম এবং ইসলামের মৌলগ্রন্থ কুরআনকে অস্বীকার করা।
৩) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ঘৃণা করা।
৪) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনীত জীবনার্দশকে ঘৃণা করা।
৫) ইসলামকে অপমান করা হলে বা ইসলামের পতন হলে মনে মনে আনন্দিত হওয়া।
৬) ইসলামের বিজয় বা ইসলামের বিস্তার লাভ করাকে অপছন্দ করা।

প্রশ্নঃ কর্মগত মুনাফেকীর বৈশিষ্টগুলো কী কী?

উত্তরঃ কর্মগত মুনাফেকীর চারটি বৈশিষ্ট রয়েছে। সেগুলো হলঃ
১) কথায় কথায় মিথ্যা বলা।
২) ওয়াদা ভঙ্গ করা বা কথা দিয়ে কথা না রাখা।
৩) আমানতের খেয়ানত করা।
৪) ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।

প্রশ্নঃ শির্‌কে লিপ্ত থাকা অবস্থায় কি কোন আমল গ্রহণযোগ্য হবে?

উত্তরঃ শির্‌কে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা’আলার কাছে কোন আমল গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ “তারা যদি শির্‌ক করত তবে তারা যত আমল করেছিল সব বরবাদ হয়ে যেত।” (সূরা আন’আমঃ ৮৮)
আল্লাহ আরো বলেন, “আল্লাহ তা’আলা তাঁর সাথে শিরক করাকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন না এবং এর নিন্মস্তরের যে কোন অপরাধ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। যে শির্‌ক করল সে (হেদায়েতের পথ থেকে) অনেক দূরে ছিটকে পড়ল।”  (সূরা নিসাঃ ১১৬)

প্রশ্নঃ ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয় কয়টি ও কী কী?

উত্তরঃ ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয় দশটি। যথাঃ
১) ইবাদতে ক্ষেত্রে শির্‌ক করা।
২) মুশরিকদেরকে মুশরিক মনে না করা বা তাদের কুফরীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা কিংবা তাদেরকে সঠিক পথের অনুসারী মনে করা।
৩) আল্লাহ তা’আলার নিকট পৌঁছার উদ্দেশ্যে কোন ‘মাধ্যম’ ধরে তার নিকট  দুআ করা বা তার নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করা অথবা তার উপর পরকালে নাজাত পাওয়ার ভরসা করা।
৪) এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শের চেয়ে অন্য কোন ব্যক্তির মতাদর্শ উত্তম বা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনীত জীবন ব্যবস্থার চেয়ে অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদ শ্রেয়।
৫) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশিত কোন বিষয়কে মনে মনে ঘৃণা করা যদিও সে তা পালন করে।
৬) দ্বীন-ইসলামের কোন বিষয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা হেয় মনে করা।
৭) যাদু করা অথবা যাদু-তাবিজ ইত্যাদির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মনের মিলন কিংবা বিচ্ছেদ ঘটানো।
৮) মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিমদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৯) এ বিশ্বাস করা যে, বিশেষ কিছু  ব্যক্তি রয়েছে যারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শরীয়ত মেনে চলতে বাধ্য নন।
১০) ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে চলা, ইসলাম শিক্ষা না করা এবং ইসলাম অনুযায়ী আমল না করা।

প্রশ্নঃ এমন তিনটি বিষয় রয়েছে যেগুলো সর্ম্পকে জ্ঞানার্জন করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যক। সে বিষয় তিনটি কী?

উত্তরঃ সে তিনটি বিষয় হলঃ ১) আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা ২) দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা ৩) নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্ম্পকে জ্ঞানার্জন করা।

প্রশ্নঃ তাগুত কাকে বলে?

উত্তরঃ আল্লাহ ছাড়া যত কিছুর ইবাদাত করা হয় সবই তাগুতের অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ তাগুত কতটি এবং মূল তাগুতগুলো কী কী?

উত্তরঃ তাগুতের সংখ্যা অনেক। তবে সেগুলোর মধ্যে প্রধান হল ৫টি।

প্রশ্নঃ প্রধান প্রধান তাগুতগুলো কী কী?

উত্তরঃ সেগুলো হলঃ
১) শয়তান।
২) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা হলেও তার কোন প্রতিবাদ করেনা বা তাকে ঘৃণা করেনা বরং তাতে রাজি থাকে।
৩) যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতের দিকে মানুষকে আহবান করে এবং এজন্য কাজ করে।
৪) যে ব্যক্তি ইলমে গায়ব তথা অদৃশ্যের খবর দিতে পারে বলে দাবি করে ।
৫) যে শাষক আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন না।
প্রশ্ন: রমযানের শেষ দশদিন ব্যতিরেকে অন্য কোন সময় ইতিকাফ করা কি জায়েয?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ।

হ্যাঁ, যে কোন সময় ইতিকাফ করা জায়েয। সবচেয়ে উত্তম ইতিকাফ হচ্ছে- রমযান মাসের শেষ দশদিনের ইতিকাফ। কারণ এতে রয়েছে রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীবর্গের অনুসরণ। সহিহ হাদিসে এটাও সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক বছর শাওয়াল মাসে ইতিকাফ করেছেন।

আল্লাহ তাওফিকদাতা।


প্রশ্ন: আমি আমেরিকাতে প্রবাসী। স্বর্ণের নিসাব আমেরিকান ডলারে কত আসবে?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ।

নিসাব হচ্ছে- যাকাত ফরয হওয়ার সর্বনিম্ন সীমা। যদি কোন ব্যক্তি এ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। আর যদি এর চেয়ে কম পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে না। একথা সুবিদিত যে, ইসলামী শরিয়াতে স্বর্ণ ও রৌপ্য উভয় মুদ্রার উপর যাকাত ফরয এবং বর্তমানে যেসব কাগুজে মুদ্রা এ দুটির স্থলাভিষিক্ত সেগুলোর উপরও যাকাত ফরয। সে মুদ্রা ডলার হোক, রিয়াল হোক, পাউন্ড হোক কিংবা অন্য কিছু হোক।

স্বর্ণের নিসাব হচ্ছে- ২০ মিসকাল; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেছেন। ১ মিসকাল আমাদের বর্তমান যামানার হিসাবে প্রায় ৪.২৫ গ্রাম। অতএব, স্বর্ণের নিসাব হবে প্রায় ৮৫ গ্রাম। যে ব্যক্তি এ পরিমাণ স্বর্ণের মালিক হবে সেটা ধরণের হোক না কেন তার উপর যাকাত ফরয হবে। হাজারে ২৫ ভাগ (২.৫%)।

আর রৌপ্যের নিসাব হচ্ছে- ২০০ দিরহাম; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন। এ দিরহাম আমাদের যামানের হিসাবে প্রায় ২.৯৭৫ গ্রাম। সুতরাং রৌপ্যের নিসাব হবে প্রায় ৫৯৫ গ্রাম। যে ব্যক্তি এ পরিমাণ রৌপ্যের মালিক হবে তার রৌপ্যের উপর যাকাত ফরয হবে। হাজারে ২৫ ভাগ (২.৫%)।

আমরা জানি যে, বর্তমানে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মূল্যের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।  তাই সাবধানতামূলক ও গরীবের জন্য কল্যাণকর হচ্ছে- আপনি দেখবেন আপনার কাছে যে ডলারগুলো আছে এবং যেগুলো সঞ্চয় করার মেয়াদ এক চন্দ্র বছর (৩৫৪ দিন) পূর্ণ হয়েছে সেগুলো যদি রৌপ্যের নিসাবের সমপরিমাণ হয় কিংবা এর চেয়ে বেশি হয় তখন আপনি এক হাজার ডলারে ২৫ ডলার হিসেবে যাকাত আদায় করবেন। যাকাতের শরিয়ত নির্ধারিত খাতে এ অর্থ বণ্টন করবেন।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে সম্পদের হক আদায় করার তাওফিক দেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মূল্য জানা যেতে পারে।

প্রশ্ন: মহান আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?


মহান আল্লাহ্‌ আছেন সাত আসমানের উর্ধে আরশের উপর। তিনি বলেছেন "পরম দয়াময় আরশে সমুন্নত" (সুরা ত-হাঃ ৫)। তিনি স্রষ্টা, সৃষ্টি থেকে উর্ধে থাকেন। তবুও তিনি বান্দার নিকটবর্তী। তার জ্ঞান ও দৃষ্টি সর্বত্র আছে। মুমিনের হৃদয়ে তার যিকর বা স্মরণ থাকে।

প্রশ্ন: মহান আল্লাহ্‌ কি নিরাকার, নাকি তার আকার আছে?


মহান আল্লাহ্‌র আকার আছে। তিনি নিরাকার নন। তবে সেই আকার কেমন, তা কেউ জানে না। তিনি বলেছেন "কোন কিছুই তার সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা " (সুরা শূরাঃ১১) তাকে বেহেশতে দেখা যাবে। তার দীদারই হবে বেহেশতে সবচেয়ে বড় সুখ। মহানবী (সাঃ) স্বপ্নে আল্লাহকে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, আমি আমার প্রতিপালককে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে দর্শন করেছি। 

প্রশ্ন: যে মসজিদে কবর আছে, সে মসজিদে নামাজ হয় না। মসজিদে কবর দেওয়া অথবা কবরের উপরে মসজিদ বানানো বৈধ নয় কেন? অথচ মহানবী (সাঃ) এর কবর মসজিদের ভিতরে রয়েছে।


বৈধ নয়, যেহেতু মহানবী (সাঃ) তা নিষেধ করে গেছেন। আর তার কবর মসজিদের ভিতরে মনে হলেও তাতে কিন্তু বৈধতার দলীল নেই। কারনঃ
প্রথমতঃ মসজিদে নববী নবী (সাঃ) নিজে বানিয়েছেন। সুতরাং তার কবরের উপর মসজিদ হয়নি।
দ্বিতীয়তঃ তার ইন্তেকালের পর তার কবর মসজিদ হয়নি। বরং তার কবর হয়েছিল মা আয়েশা (রাঃ) ঘরের ভিতরে।
তৃতীয়তঃ মসজিদে নববী সম্প্রসারণের সময় মা আয়েশার ঘর যখন মসজিদের শামিলে আনা হয়, তখন তা সাহাবাগনের ঐক্যমতে ছিল না। বরং সেই সময় অধিকাংশ সাহাবা পরলোকগত। আর তা ছিল প্রায় ৯৪ হিজরীতে। যে সকল সাহাবা তখন বর্তমান ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সে কাজের প্রতিবাদ করেছেন। তাবেঈনদের মধ্যে যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের মধ্যে সাঈদ বিন মুসাইয়িব অন্যতম।
চতুর্থতঃ মা আয়েশার হুজরা মসজিদে শামিল হওয়ার পরেও কবর মসজিদে নয়। বরং তা পৃথক কক্ষে সংরক্ষিত আছে। তিন তিনটি দেওয়াল ও রেলিং দিয়ে তা পৃথক করা আছে। ভিতরের দেওয়াল দেওয়া আছে তিনকোণা আকারে, যাতে তার পশ্চাতে কেউ নামায পড়তে দাঁড়ালে সরাসরি কবর সামনে না পড়ে ।
বলা বাহুল্য, মহানবী (সাঃ) এর কবর দেখে মসজিদের ভিতর কবর দেওয়ার বৈধতার দলীল পেশ করা শুদ্ধ নয়।

প্রশ্ন: আহলে কিতাব (ইয়াহুদী- খ্রিষ্টান) কি কাফের?


মহান আল্লাহ্‌ই তাদেরকে মুশরিক ও কাফের গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন "আর ইয়াহুদীরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং খ্রিষ্টানরা বলে, মসীহ আল্লাহর পুত্র । এটা তাদের মুখের কথা মাত্র (বাস্তবে তা কিছুই নয়)। তারা তো তাদের মতই কথা বলছে, যারা তাদের পূর্বে অবিশ্বাস করেছে। আল্লাহ্‌ তাদেরকে ধ্বংস করুন, তারা উল্টা কোন দিকে যাচ্ছে! তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পণ্ডিত-পুরোহিতদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারইয়াম পুত্র মসীহকেও। অথচ তাদেরকে শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধুমাত্র একক উপাস্যের উপাসনা করবে, যিনি ব্যাতিত (সত্য) উপাস্য আর কেউই নেই, তিনি তাদের অংশী স্থির করা হতে পবিত্র " (সুরা তাওবাহঃ ৩০-৩১)
নিশ্চয় তারা অবিশ্বাসী (কাফের) যারা বলে মারইয়াম তনয় মসীহই আল্লাহ্‌ (সুরা মায়ীদাহঃ ১৭,৭২)
আর মহানবী (সাঃ) বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ আছে! এই উম্মতের যে কেউ, ইয়াহুদী অথবা খ্রিষ্টান আমার কথা শুনবে, অতঃপর সে আমি যা দিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি ঈমান না এনে মারা যাবে, সে জাহান্নামবাসী হবে।
সুতরাং রাজনৈতিক তোষামোদির কারনে কাফেরকে কাফের মনে না করা, কাফেরদের ভজনালয়কে আল্লাহর ঘর ধারনা করা কুফরী।

প্রশ্ন: কবরপূজা কি ইসলামের শরীয়ত সমর্থিত?


না। কবরপূজা, আস্তানাপূজা ইত্যাদি ইসলামে কোন পূজা নেই। ইসলামে আছে ইবাদত। আর তা কেবলমাত্র মহান আল্লাহ্‌র জন্য। কবরপূজা মূর্তিপূজার শামিল। কবরকে কেন্দ্র ক’রে তাওয়াফ করা, নযর বা মানত মানা, কবরকে সিজদা করা, কবরবাসীর কাছে কামনা বা প্রার্থনা করা ইত্যাদি শিরকে আকবর। এমন কাজে মুসলিম ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়। কবরকে উঁচু করা, কবর বাঁধানো, রং করা, তার উপর চাদর চড়ানো, তার উপর ঘর বা গম্ভুজ নির্মাণ করা, কবরের পাশে বাতি বা ধুপধুনো দেওয়া, উরস করা ইত্যাদিতেও ইসলামের অনুমোদন নেই।

প্রশ্ন: আল্লাহ্‌র নবী (সঃ) কি হাযির-নাযির?


আল্লাহ্‌র নবী (সঃ)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর দেহ মা আয়েশার ঘরে সমাহিত আছে এবং তাঁর রূহ আছে জান্নাতে। সে এক ভিন্ন জগৎ। সে (মধ্য) জগৎ ও এ (পার্থিব) জগতের মাঝে আছে যবনিকা। সে জগৎ থেকে তিনি এ জগতের কোথাও হাযির (উপস্থিত) ও নাযির (পরিদর্শন) বা বিরাজমান হতে পারে না। তিনি না বিদআতী মীলাদের সময়, আর না অন্য কোন শুভ সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হতে পারেন। সে জগৎ থেকে তিনি এ জগতের কোন খবর ও জানতে পারেন না। ভক্তির আতিশয্যে শুধু বিশ্বাস করলেই হয় না, বাস্তবে তাঁর দলীল-প্রমাণ থাকা আবশ্যক।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ্‌ও সর্বত্র বিরাজমান নন। বরং তাঁর জ্ঞান, দৃষ্টি ও সাহায্য গগণে-ভুবনে সর্বত্র আছে। আর তিনি আছে সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে আরশের উপরে।


প্রশ্ন: ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন: গোশত দিয়ে ফিতরা আদায় করা জায়েয। ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন গ্রন্থে (৩/১২) বলেন: যদি তাদের খাদ্য হয় শস্যদানা ছাড়া অন্য কিছু যেমন- দুধ, গোশত, মাছ তাহলে তারা যেটা তাদের খাদ্য হয় সেটা দিয়ে ফিতরা আদায় করবে…”। আমার প্রশ্ন হচ্ছেআমি যদি গোশত দিয়ে ফিতরা দিতে চাই তাহলে আমি কি ২.৫ গ্রাম গোশত ফিতরা দিব? নাকি এক স্বাচালের যে দাম হয় সেটা নগদ মুদ্রাতে হিসাব করে সে অর্থ দিয়ে গোশত খরিদ করে দিব?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

ইতিপূর্বে 99327 নং প্রশ্নোত্তরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাদের খাদ্য গোশত তাদের জন্য গোশত দিয়ে ফিতরা দেয়া জায়েয।

দুই:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহে এসেছেখাদ্যদ্রব্যের ফিতরার পরিমাণ এক স্বাহিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। যদি কোন মুসলমান গোশত দিয়ে কিংবা অন্য কিছু দিয়ে ফিতরা আদায় করতে চায় যেসব জিনিস ওজন করে বিক্রি করা হয় তাহলে ওজনের মাধ্যমে ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:

কিন্তু সমস্যা হল, গোশত তো আর স্বাদিয়ে মাপা যায় না। তাই আমরা বলব: যদি পাত্র দিয়ে মাপা সম্ভব না হয়; তাহলে ওজন করব।”[আল-শারহুল মুমতি (৬/১৮২) থেকে সমাপ্ত]

আলেমগণ গোশত দিয়ে ফিতরা আদায় করলে পরিমাণ কতটুকু হবে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। মালেকী মাযহাবের গ্রন্থ হাশিয়াতুদ দুসুকিতে (৫/৩৬) এসেছে— “তাঁর কথা: গোশত জাতীয় খাদ্য ওজন দিয়েঅর্থাৎ গোশত ও এ জাতীয় খাদ্য যেমন- দুধ হলে সেটি বাগদাদী ওজনে 5  রতল ফিতরা হিসেবে আদায় করতে হবে।[সমাপ্ত]

রতল: এটি ওজনের একক। আবার এটি আয়তনেরও একক। বহু গবেষকের গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, বাগদাদী রতল হচ্ছে৪০৮ গ্রাম।

দেখুন: মাজাল্লাতুল বুহুস ইসলামিয়্যা’, সংখ্যা-৩৯ ও ৫৯।

এ হিসাব অনুযায়ী গোশতের ফিতরার পরিমাণ হবে—  ২১৭৬ গ্রাম।

উল্লেখ্য, (আয়তনের একক) স্বাকে ওজনের এককে রূপান্তর করাটা আনুমানিক। কেননা স্বাএর মধ্যে যা কিছু মাপা হয় সেটার ভরের ভিত্তিতে ওজনের তারতম্য ঘটে। তাই কোন মুসলিম যদি সতর্কতামূলকভাবে কিছুটা বেশি আদায় করে সেটাই উত্তম।

ইবনে কুদামা (রহঃ) বলেন: আমরা দলিল প্রমাণ উল্লেখ করেছি যে, এক স্বাহচ্ছে- 5  ইরাকী রতল। মূলতঃ স্বাহচ্ছে আয়তনের একক। আলেমগণ এর ওজন উল্লেখ করেছেন যাতে করে, এ হিসাব মুখস্থ রাখা যায় এবং অন্যদের কাছে তথ্যটি পৌঁছিয়ে দেয়া যায়।

একদল রাবী ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি স্বাএর মধ্যে গম ওজন করে 5  রতল পেয়েছি। তিনি আরও বলেন: আমরা ডালকে একক হিসেবে গ্রহণ করেছি। যেহেতু পরিমাপের ক্ষেত্রে ডাল সবচেয়ে উত্তম। কারণ ডাল এর আয়তনের চেয়ে বেশি ফুল-ফেঁপে থাকে না। তাই আমরা প্রথমে এক স্বাডাল মেপে নিয়েছি, তারপর সে ডালকে ওজন করে দেখি: 5  রতল। সুতরাং এক স্বাগম ও ডাল এর ওজন যদি হয় 5  রতল; তাহলে ফিতরার অন্য শ্রেণীর খাদ্যের ওজন এর চেয়ে বেশি হবে না। যেহেতু এ দুইটি সবচেয়ে ভারী এবং অন্য খাদ্যগুলো এ দুটির চেয়ে হালকা। অতএব, কেউ যদি 5  রতল গম বা ডাল আদায় করে তাহলে সেটা এক স্বাএর চেয়ে বেশি হবে। তবে, উত্তম হচ্ছে, যে ব্যক্তি ভারী জিনিস দিয়ে ফিতরা আদায় করবে সে ক্ষেত্রে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করবেন এবং একটু বেশি দিবেন; যাতে করে সে নিশ্চিত হতে পারে যে, পূর্ণ এক স্বাআদায় করা হয়েছে।

[আল-মুগনী (৪/২৮৭) থেকে সমাপ্ত]

আল্লাহই ভাল জানেন।

প্রশ্ন: ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ’, ‘ইয়া আলী’, বা ‘ইয়া জীলানী’, বলা বৈধ কি?


উদ্দেশ্য যদি আপদে-বিপদে আহবানে বা সাহায্য প্রার্থনা করা হয়, তাহলে তা শিরকে আকবর। এমন শিরক মুসলিমকে ইসলাম থেকে খারিজ ক’রে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, “অথবা তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি করেন। আল্লাহ্‌র সঙ্গে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই উপদেশ গ্রহণ ক’রে থাক।" (নামলঃ৬২)
“সে, ব্যাক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহ্‌র পরিবর্তনে এমন কিছুকে ডাকে, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তাঁর ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাঁদের ডাক সম্বন্ধে অবহিতও নয়।”(আহকাফঃ৫)
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, কোন সৃষ্টির কাছে সাহায্য প্রার্থনার আহবান তিন শর্তে বৈধঃ
১। যার নিকট সাহায্য চাওয়া হবে, তাঁকে পার্থিব জীবনে জীবিত থাকতে হবে।
২। তাকে উপস্থিত বা আহবান শুনতে পাচ্ছে এমন অবস্থায় থাকতে হবে।
৩। যে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে, সে সাহায্য করার মতো তাঁর ক্ষমতা থাকতে হবে।

প্রশ্ন: আল্লাহ ছাড়া কেউ কি ‘বিপত্তারণ’ বা ‘গওস পাক’ আছে?


আল্লাহ ছাড়া কেউ ‘বিপত্তারণ’ বা ‘গওস’ নেই। সুতরাং বিপদে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকতে হবে, একমাত্র তারই কাছে সাহায্য চাইতে হবে। বিপদে ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, ইয়া আলী, ইয়া জীলানী’ বলে সাহায্য চাওয়া শিরকে আকবর। মহান আল্লাহ বলেন,
“অথবা তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি করেন। আল্লাহ্‌র সঙ্গে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।”(নামলঃ৬২)
মহানবী (সঃ) বলেন, “যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহ্‌র কাছেই চেয়ো। আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো।”

প্রশ্ন: মহানবী (সঃ) কি আমাদের মতো মানুষ ছিলেন?


মহানবী (সঃ) আমাদের মত রক্ত, গোশত ও অস্তির গড়া মানুষ ছিলেন। আমাদের মত পিতার ঔরসে ও মাতার গর্ভে তাঁর জন্ম হয়েছিল। আমাদের মত তিনি খেতেন, পান করতেন। সুস্থ-অসুস্থ থাকতেন। বিস্মৃত হতেন, স্মরন করতেন। বিবাহ-শাদী করেছেন, তাঁর একাধিক স্ত্রী ছিল। তিনি সন্তানের জনক ছিলেন। ব্যবসা- বাণিজ্য করতেন। দুঃখণ্ডশোক, ব্যাথা ও যন্ত্রণা অনুভব করতেন। তাঁর প্রস্রাব- পায়খানা হত এবং তা অপবিত্র ছিল। তাঁর নাপাকীর উযু-গোসলের প্রয়োজন হতো। ১১  জীবিত ছিলেন, ইন্তিকাল করেছেন। মানুষের সকল প্রকৃতি ও প্রয়োজন তাঁর মাঝে ছিল।

মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সঃ)-কে বলেছেন,

তুমি বল, ‘আমি তো তোমাদেরই মতই একজন মানুষ; আমার প্রতি প্র্যত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের উপাস্যই একমাত্র উপাস্য; সুতরাং যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকেও শরীক না করে।’(কাহফঃ ১১০, হা-মীম সাজদাহঃ৬)
পক্ষান্তরে কোন মানুষই তাঁর মত (সমান) নয়। আমরা তাঁর মতো মানুষ নই। অতিপ্রাকৃত বিষয়ে কেউই তাঁর মতো নয়। তিনি একটানা রোযা রাখতেন। সাহাবীগন তাঁর মতো রোযা রাখতে চাইলেন। তিনি বললেন, ‘এ বিষয়ে তোমরা আমার মতো নও। আমি তো রাত্রি অতিবাহিত করি, আর আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান।’
তাঁর দেহের ঘাম ছিল সুগন্ধি। একদা তিনি উম্মে সুলাইম (রঃ)'র ঘরে এসে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। তিনি ঘর্মাক্ত হলে উম্মে সুলাইম সেই ঘাম জমা করতে লাগলেন। তিনি জেগে উঠে তা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার উম্মে সুলাইম?’ বললেন ‘আপনার ঘাম। আমাদের সুগন্ধিতে মিশিয়ে দেব। আর তা হবে শ্রেষ্ঠ সুগন্ধি।’
তিনি বিশেষ ক’রে নামাযে সামনে যেমন দেখতেন, তেমনি পিছনেও দেখতেন। একদা এক নামাযের সালাম ফিরে তিনি বললেন, “তোমরা তোমাদের রুকু ও সিজদাকে পরিপূর্ণভাবে আদায় কর। সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রান আছে, আমার নিকট তোমাদের রুকু, সিজদাহ ও বিনয়-নম্রতা অস্পষ্ট নয়। আমি আমার পিঠের পিছনে থেকে দেখতে পাই, যেমন সামনে দেখতে পাই।
তাঁর চক্ষু নিদ্রাভিভূত হতো, কিন্তু হৃদয় নিদ্রাভিভূত হতো না।
তাঁর দেহ ও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন চুল, থুথু, তাঁর ব্যবহারিত জিনিস ইত্যাদি বরকতময় ছিল।

প্রশ্ন: মহানবী (সঃ) কি মাটির তৈরি ছিলেন, নাকি নূরের তৈরি ছিলেন?


নূরের তৈরি ফিরিশতামণ্ডলী। মহানবী (সঃ) আদমের অন্যতম সন্তান। সুতরাং তারাও আদিসৃষ্টি মাটি থেকেই।
তিনি আল্লাহ্‌র তরফ থেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত পথভ্রষ্ট মানুষের জন্য প্রেরিত নূর (জ্যোতি বা আলো) ছিলেন। সেই নূর বা আলোতে জাহেলিয়াতে তমসাচ্ছন্ন যুগ ও সমাজ আলোকিত হল। অন্ধকারে দিশাহারা মানুষ সেই আলোকবর্তিকায় সরল পথের দিশা পেল। তাঁর দেহ নূরানি ছিল, কিন্তু তিনি নূর বা নূর থেকে সৃষ্টি ছিলেন না। মহান আল্লাহ্‌র সৃষ্টি বৃত্তান্তে একমাত্র ফিরিশতাই নূর থেকে সৃষ্টি। আর নবী মুস্তফা (সঃ) ফিরিশতা ছিলেন না। সর্বপ্রথম আল্লাহপাক আরশ ও কলম সৃষ্টি করেন। নূরে মুহাম্মাদী আল্লাহ্‌র প্রথম সৃষ্টি নয়। পক্ষান্তরে যে হাদীসে নূরে মুহাম্মাদীর কথা বলা হয়েছে, তা জাল বা বাতিল হাদীস।

No comments:

Post a Comment